বিদ্রোহী তৃণমূলের সাংসদদের প্রতিনিধিদের কেন আমন্ত্রণ? প্রতিবাদ জানিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ওয়াকআউট বিরোধীদের
বাংলার জনরব ডেস্ক : লোকসভার স্পিকারের দেওয়ার তালিকায় এখনো তৃণমূল সাংসদদের সংখ্যা দেখানো হয়েছে ২৮। এ থেকে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে যে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তৃণমূল সাংসদদের যে 20 জন সাংসদ দল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন পার্টিতে যোগ দিয়েছে তাতে স্বীকৃতি এখনো পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। বরং তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই কুড়িজন সাংসদ এর সদস্যপদ খারিজের যে আবেদন করা হয়েছে তা এখনো বিবেচনাধীন। তার পরেও কোন এক অজানা কারণে রবিবার দিল্লিতে সর্বদলীয় বৈঠকে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টির তে যোগ দেওয়া এই কুড়িজন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদের মধ্যে কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে।
এই আমন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে বেআইনি এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বিরোধী বলে অভিযোগ করে আজকের সর্বদলীয় বৈঠক থেকে সাময়িকভাবে ওয়াক আউট করে বিরোধীদলের বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। এদের মধ্যে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস যেমন আছে একইসঙ্গে উদ্ভব ঠাকরের শিবসেনা রয়েছে আর তৃণমূল কংগ্রেস তো আছেই।
কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়-সহ ২০ জন সাংসদ সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। দলটি বিজেপির জোটসঙ্গী। দলত্যাগের কারণে তাঁদের সাংসদপদ বাতিল চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন জানিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ওই দলত্যাগী সাংসদদের সর্বদল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান। এনসিপিআই প্রতিনিধি হিসাবেই আমন্ত্রণ পেয়েছেন তাঁরা। সর্বদলীয় বৈঠকে আমন্ত্রণ পাওয়ায় এনসিপিআইকে কার্যত পৃথক দল হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে বিরোধীদের একাংশের দাবি।। যদিও স্পিকার এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে এনসিপিআই সাংসদ হিসাবে তৃণমূলের এই বিদ্রোহীদের স্বীকৃতি দেননি।
সোমবার থেকে লোকসভার বাদল অধিবেশন শুরু হবে। তার আগে রবিবার বেলা ১১টার পর সর্বদল বৈঠক শুরু হয়। সেখান থেকে ওয়াক আউট করে বেরিয়ে এসে মহুয়া বলেন, ‘‘আমরা ওয়াক আউট করেছি। এই ২০ জন সাংসদকে স্পিকার এখনও স্বীকৃতি দেননি। ভারতীয় সংবিধানে ৯১তম সংশোধনীর পর আর কোনও পরিবর্তনও হয়নি। এমনকি, লোকসভার ওয়েবসাইটে এখনও তৃণমূলের সাংসদসংখ্যা ২৮। তা হলে কিসের ভিত্তিতে এই বিদ্রোহীদের সর্বদল বৈঠকে ডাকা হল? ওঁরা তো তৃণমূলে নেই।’’ মহুয়ার সঙ্গে ছিলেন আর এক তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ও। এ ছাড়া, আরও কিছু বিরোধী দলের প্রতিনিধি তাঁদের সঙ্গে ওয়াক আউট করেছিলেন। কিছু ক্ষণ পরে আবার তাঁরা বৈঠকে যোগ দেন।
শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করেন সুদীপ। এনসিপিআই-এর তরফে লোকসভায় পৃথক আসন ব্যবস্থার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। স্পিকার তা মেনে নিয়েছেন। প্রতীকী ওয়াক আউট করে স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদও জানিয়েছেন বিরোধীরা। এ ছাড়া, মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনায় যাঁরা বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন, তাঁদের একনাথ শিন্ডের শিবসেনায় যোগ দেওয়া নিয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন বিরোধী সাংসদেরা।
মহুয়াদের সঙ্গে প্রতীকী ওয়াক আউটে ছিলেন কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, সিপিএম, ডিএমকে, জেএমএম, আম আদমি পার্টি, শিবসেনা (উদ্ধব) এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রতিনিধিরা। সিপিএম নেতা জন ব্রিটাস এনসিপিআই-কে সর্বদল বৈঠকে আহ্বানের বিষয়টিকে ‘ন্যায়ের পরিপন্থী’ বলে উল্লেখ করেছেন।

